Tuesday, January 14, 2020

আব্দুর রহমান কাশগরীর ঘটনা

আমার সাথে আম্মাকেও দেশ ছাড়ার জন্য বলা হল। কিন্তু দু’টি বোন এবং আমার বড় ভাইয়ের আশা তিনি তখনও ছাড়েন নি। হয়ত ওরা জালিমদের হাত থেকে ছাড়া পাবে অথবা অন্তত একটা খবর আসবে। নির্ধারিত সময়ে (বিদায়ের জন্য) একটা পুটলি হাতে দিয়ে আমাকে কাফেলার সঙ্গি করে দেওয়া হলো। সেদিন আকাশে চাঁদ ছিল না। সন্ধারাতের আবছা অন্ধকারে মা আমাকে কিছুদূর এগিয়ে দিতে এসেছিলেন। শেষটায় একটা টিলার উপর দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন বিলীয়মান কাফেলাটার দিকে।
শেষবারের মত মায়ের কণ্ঠ শুনতে পেয়েছিলাম, চিৎকার করে আমার নাম ধরে ডাকছেন। আমাদের কাফেলাটি তখন পাহাড়ী পথের বাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। আমার পরে যারা দেশ ছেড়ে এসেছিল, তাদের মুখে শুনেছি, আমাকে বিদায় দেওয়ার পর মা পুরাপুরি পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিদিনই সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তিনি পাহাড়ী টিলাটার উপরে এসে দাঁড়াতেন। কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে এক সময় চিৎকার করে ডাক দিতেন, আব্দুর রহমান, আব্দুর রহমান!! শুনেছি, একদিন আমার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে আমার মা টিলাটার উপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। বিশ্বাস করো, প্রতি সন্ধায় এখনও আমি আমার স্নেহময়ী মায়ের কণ্ঠ শুনতে পাই। তিনি যেন ‘আব্দুর রহমান, ‘আব্দুর রহমান, বলে আমাকে ডাকছেন।”

মায়ের মমতা কত গভীর! মা ছাড়া পৃথিবীতে এত আপন কে হতে পারে!! পৃথিবীর সব মায়েরা সব সময় ভালো থাকুক। আল্লামা কাশগরী রহ. ও তাঁর মাকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের উচ্চ মাকাম নসীব করুন।

এবার মূল কথায় আসি। বলছিলাম নড়াইল সফরের কথা- একদিন দৈনিক যুগান্তর থেকে হাফেজ আহমদুল্লাহ সাহেবের ফোন আসে হাফেজদের নিয়ে একটি ফিচারধর্মী লেখা তৈরি করার জন্য। যাদের বিষয়ে লিখবো তাদের ছবিও লাগবে, এ ধরণের একটা মধুমাখা শর্ত জুড়ে দেন তিনি। তারপর দুই দিনে পৃথক সময়ের ব্যবধানে একটি ফিচার তৈরি করি। শুক্রবার আসার আগে আগে ছবিসহ লেখাটা ইসলামী জীবন বিভাগে মেইল করি। ২০০৪ সালে মেইল এত ব্যাপক ছিল না। মাসিক বা দৈনিকের বিশেষ পাতাগুলোর জন্য তখন মূল ঠিকানার পাশাপাশি ফ্যাক্স ছিল। এক মিনিটের ফ্যাক্স ৫০ টাকা। মিনিট অভার হয়ে এক সেকেন্ড হলেই ১০০ টাকা। কিছু লেখা ফ্যাক্সেও পাঠিয়েছি; তবে দুই টাকার খামকে লেখা পাঠানোর মূল মাধ্যম হিসেবে সাদরে গ্রহণ করি। চিল্লার বছর নড়াইলের ‘কালিহাতি’ থানায় আমিনুর ভাই-র দোকানেই মেইল ছিল। তিনিও টুকটাক লেখালেখি করতেন। এ সুবাদে তাকে পাক্ষিক মুক্ত আওয়াজের রিপোর্টার হওয়ার কাজও সমাধা করে দিয়েছিলাম।